যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ নামে পরিচিত একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় ‘শিগগিরই’ হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান এই সামরিক সংঘাতকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ ট্রাম্প। একে একটি ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’ তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। কারণ, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে আপনারা হয়তো আর এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।’
পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাকক্সে হামলা চালাতে পারি। পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন জায়গায় কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।’
উল্লেখ্য, পিকঅ্যাক্স পর্বত হলো তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছেই এটি অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এখানে কঠিন গ্রানাইট পাথরের শত শত মিটার নিচে দুটি গভীর টানেল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমার হামলা থেকে স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই এটিকে এভাবে নকশা করে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ—ইরান সেখানে গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র তৈরি করতে পারে, যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট